
ফরিদপুর সদরের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে দাদি, ফুফু ও প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লার (২৮) সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে তার পরিবার। স্বজনদের মতে, আকাশের এই নৃশংসতার কারণে তিনটি সাজানো পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে।
গত সোমবার রাতে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে নিজ দাদি আমেনা বেগম (৮০), ফুফু রাহেলা বেগম (৫৫) এবং প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরীকে (৪৯) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে আকাশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন হলেও শোকের মাতম থামছে না এলাকায়।
বিশেষ করে প্রতিবেশী কাবুল চৌধুরীর পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায়। কাবুল ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। এক সপ্তাহ আগেই এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনেছিলেন তিনি। নিহতের স্ত্রী কোহিনূর বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
"আমার দেখার কেউ রইল না। ছয় মাস আগে বড় ছেলেকে হারিয়েছি, এখন স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের খাওয়াব কীভাবে আর ঋণের কিস্তিই বা দেব কীভাবে?"
অন্যদিকে, আমেনা বেগমের ছেলে বারেক মোল্লা ও রাহেলা বেগমের ছেলে মিঠুন মুন্সীও তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা। মিঠুনের ভাষায়, "এক মুহূর্তের মধ্যে আমাদের সোনার সংসার ছারখার হয়ে গেল।"
ঘটনার পর থেকে আকাশের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি নেই তার পরিবারের। আকাশের চাচা বারেক মোল্লা এবং ভাই সোহান মোল্লা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা আকাশের কোনো খোঁজ রাখতে চান না। কারাগারে থাকা আকাশের সাথে পরিবারের কেউ দেখাও করতে যাননি। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যার কারণে তিনটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল, তার কোনো খবর রাখার ইচ্ছা তাদের নেই।
আকাশের পরিবার দাবি করেছে, এক সময় মেধাবী ও ধার্মিক থাকা আকাশ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও পরিবারের চাপে তিনি যেতে পারেননি। পরবর্তীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রতিপক্ষের মারধরের শিকার হওয়ার পর থেকে তার মনে চরম মৃত্যুভয় জাঁকিয়ে বসে।
স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তার মানসিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা করানো হলেও নিয়মিত ওষুধ সেবন না করায় তিনি সহিংস হয়ে ওঠেন বলে পরিবারের ধারণা।
ফরিদপুর পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর ভোরে একটি কলাবাগান থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন কথা২৪-এর পর্দায়।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।